মি. 'ক' ভারতের মাদ্রাজে বাস করেন। তিনি সম্প্রতি ঢাকায় বেড়াতে আসেন। বাংলাদেশি বন্ধু.মি. 'খ' তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং নিজ বাসায় থাকতে দেন। একদিন বিকেলে চা পান করতে করতে তারা সরকার ও রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করেন। মি. 'ক' বলেন ১৯৪৭সালে ভারত ও পাকিস্তানের সৃষ্টি হয়। কিন্তু পাকিস্তান বেশি দিন টিকতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে ভাষা বিভক্তির পথ তৈরি করে। তোমাদের একাত্মবোধ পাকিস্তানকে হার মানিয়েছে। তখন মি. 'খ' বলেন তোমার ধারণাই ঠিক, যে কারণে তোমরা আজও বিভক্ত হওনি।
মি. 'খ'-এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তার ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐক্য বিশেষভাবে কাজ করেছে। কেননা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভাবের আদান-প্রদান হয়। আর এ ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি জাতির প্রত্যেকে প্রত্যেকের সম্পর্কে জানতে পারে এবং তাদের মধ্যে এক ধরনের জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা পায়। মানুষের ভাব প্রকাশের প্রধান বাহন হলো ভাষা। যখন কোনো জনসমাজের অন্তর্গত প্রায় সব লোক একই ভাষায় কথা বলে এবং একই সাহিত্য তাদেরকে সমভাবে আকৃষ্ট ও অনুপ্রাণিত করে তখন তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। একই ইংরেজি ভাষায় কথা বলা সত্ত্বেও ইংরেজ, আমেরিকান, অস্ট্রেলিয়ান ও নিউজিল্যান্ডের জনগণ এক জাতিতে পরিণত হয়নি। সউদি আরব, সুদান, মরক্কো, মিসর, কুয়েত ও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রের ভাষা আরবি হলেও তারা এক জাতিতে পরিণত হয়নি। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবোধ আরবি ভাষাভাষি দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন ভাষাভাষি জনগণের মধ্যে যে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে সে জাতীয়তাবোধ অপেক্ষা একই ভাষাভাষী জনগণের জাতীয়তাবোধ অনেক বেশি মজবুত ও ফলপ্রসূ। যার কারণে মি. 'খ' এর দেশের মানুষের অনুভূতি সৃষ্টিতে জাতীয়তা এদিকটি বিশেষভাবে কাজ করেছে
আপনি আমাকে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন, যেমনঃ
Are you sure to start over?